তপেশ দাশগুপ্ত


স্বরবিতান


বিষ্ণুপদ এসেছিল

তার কথা আমি খুব মানি



সে এমনভাবে বলে না মানলেও হয়



কিন্তু ও তো বলে না

ও আমাকে গাছের কাছে দাড় করিয়ে দেয়

আশপাশ দিয়ে হেঁটে চলা মানুষ



সুনন্দা ওদিক দিয়ে আসছে দেখি



বিষ্ণুপদ দাঁড়িয়ে থাকে

সুনন্দা ওর মধ্যে ঢুকে যায়



আমি সম্মোহিতের মতো তাকাই

একবার সুনন্দার দিকে একবার বিষনুপদর দিকে



এবার ভোটে কোনো জোর নেই

মানুষ যেন ভোট দিতে দিতে নিস্তেজ হয়ে গেছে



বিষ্ণুপদর দাঁড়িয়ে থাকার জোর দেখি



কাচারাস্তায় আলের ধারে দাঁড়িয়ে থাকে

এখানেই কার্তিকমাসে তারা খসে দেখা যায়

এখানেই টাঙ্গি নিয়ে ছুটে গিয়েছিল যুবকেরা



আজকে বিষ্ণুপদ দাঁড়িয়ে আছে



পৃথিবীর একজন মানুষ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে



ক্ষেত পুড়ে খাক হয়ে যেতে পারছে না

যেন একটি কাঠির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে ক্ষেত



সুনন্দা আর বিষ্ণুপদ দুজনে মিলে বৃষ্টি নামায়

তামাম রঙপুর জেলার মানুষ বৃষ্টি নামাতে পারে নি

বিষ্ণুপদ পৃথিবীর লোক বৃষ্টি নামিয়েছে

পিঙ্কি মানে আমি জানি না

আমি সটান পিঙ্কির কাছে চলে যাই

ও তখন অঙ্ক করতে থাকে

অঙ্কের ভিতরে বিষ্ণুপদকে দেখা যায় কিনা দেখি

আবছা আবছা ভেসে ওঠে গাছ

নদী

বৃষ্টি

ওর ভূগোল বই নিয়ে পৃথিবীর মধ্যে রঙপুর জেলা দেখার চেষ্টা করি

দেখি রঙপুর জেলা পৃথিবীর মধ্যে এক বিশেষ দ্রষ্টব্য

ওখানে বিষ্ণুপদ নামে এক পৃথিবীর লোক থাকে

তার ভিতরে সুনন্দা সহজে ঢুকে যায়

যাতায়াতের এত সহজ রাস্তা বানিয়েছে বিষ্ণুপদ

সমস্ত রাস্তাই asset

সমস্ত রাস্তা দিয়েই সবখানে যাওয়া যায়

জঙ্গলের ভিতর দিয়ে রাস্তা তৈরী হয়

সমুদ্রের ভিতর দিয়ে রাস্তা তৈরী হয়

ধানগাছের ভিতর দিয়ে রাস্তা তৈরী হয়

চালকলের গুদামের ভাতের

ভাত অব্দি রাস্তা তৈরী হয়

টাঙ্গি নিয়ে ছুটে যায় যুবকেরা গুদামের অবধি

এই সহজ ছবি পিঙ্কির অঙ্ক বইয়ে দেখি

পিঙ্কি অংক ভালবাসে বলে পিঙ্কি দেখে না

আমি আড় থেকে দেখে নিই

পিঙ্কি বলে কি দেখ

আমি বলি হাস জলেতে সাঁতার কাটে

চৈ চৈ করে সারাদিন কাটে

মাঝে মধ্যে পারে এসে গা ঝাড়া দেয়

জল ছেটে আমার চোখে মুখে

পিঙ্কিকে দেখাই ও হাসে

একদিন পিঙ্কির সাথে বিষ্ণুপদর বিয়ে হবে

পৃথিবী জুরে ম্যারাপ বাঁধা হবে

নিমন্ত্রিত রঙপুরের সব লোক

1 comment:

  1. পিঙ্কি শব্দ পিঙ্কি মানুষ
    অনবদ্য এবং প্রিয় কবিতা। আগেও বলেছি তপেশ জেঠু।

    ReplyDelete