অনিমিখ পাত্র


পোকাদের কথা

১.

এই জার্নির আশেপাশে অস্পষ্ট ফসলের মাঠ। আর দেহপরিধিতে

মনখারাপ রঙের পশম। এইসব নিয়েই চলেছি।

এক একটি জনপদ ফুটে ওঠে সন্দেহের মতো।

যেন ললিত রাগের টানে কিছু কিছু জোনাকি এসেছে।



তো, আবিষ্কার করি, এই মনখারাপ হলো এক প্রয়োজনীয় ফল।

তা থেকে রসটি নিয়ে বেঁচে থাকে আমাদের পোকা

২.

আমাদের পোকাগুলি নড়ে ওঠে। মাথাতেও ওঠে।

এমনকি স্বপ্নের মধ্যে তাহাদের শুঁড়গুলি হেসেখেলে যায়

আমাদের পোকাগুলি সময়মতো হারিয়ে যেতেও পারে



তো, রক্ষে এই, আমাদের মাঝখানে অসম্ভবের সেতু।

আর বেশ কয়েক মানুষ দৈর্ঘ্যমাপ। এই যা রক্ষে

৩.

আমাদের পোকাগুলি চরিত্রকে কুরে কুরে খায়।

আমরা ভাবি, দুর্ভাবনায় মানুষটা রোগা হয়ে গেছে !

ভাবনায় পোকাদের নীরব অট্টহাসি ওড়ে



এইভাবে, কোনোভাবে, লেখাকে শেষের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছি, দেখে

পোকাগুলি মৃদু মৃদু পথ করে দেয়

৪.

এই পোকাদের নাম কী দি’, যেমন কাফকা নাম নিয়েছে সে জাপানি ছেলেটি

নির্দিষ্ট একটি নয়, এই পোকাগুলি পিলপিল শ্রেণির

ধ্বনি ও ভারসাম্য নিয়ে, শব্দের বুনন নিয়ে উহাদের মাথাব্যথা আছে



তো, এই গ্রীষ্মপ্রধান দেশে, আমাকে উদ্ধার করে পোকারাই

‘যে নামেই ডাকো, তুমি আবহাওয়া বদলাতে পারবে না’

৫.

পোকাদের যুক্তিগুলি আমাকে সন্ত্রস্ত করে দেয়

ভরাবাজারের মধ্যে দড়ি ধরে টান মারবে, এরকম কথাই ছিল না

যে পোকা আমার, সেই পোকা কি গো ‘আমাদের’ও নয়?



তো, শুধু বুড়বুড়ি ওঠে জলে, লোকালয় ফাঁকা হয়ে যায়

আমার ও পোকার মধ্যে এরকম যুদ্ধের কথাও ছিল না

৬.

আমাদের পোকাগুলি আমাদের সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা ভূগোল পার হয়

কে কার মাথায় চড়ে, দ্বন্দ্ব দেখে ধাঁধা লেগে যায়

অনুপ্রাসের দিনে অথচ তো সকলেই একত্রে বেজেছে



হঠাৎ হাওয়ার ঝোঁকে ‘নেই’ হয়ে যাওয়া আর আমাকে মানায়?

বরং স্নায়ুর পথ খুলে দিই, ঘুরে ঘুরে প্রাণে এসো পোকা

2 comments: