নগরের সেই রেস্তুরা
চাকচিক্য পূর্ণ রেস্তুরাটা দেখে কাফির লোভ লাগল। তার পেটের ভিতর দুনিয়ার ক্ষুধা বাসা বাঁধতে লাগল সঙ্গে সঙ্গে। প্রথমে তার মনে হল, যাই এক কাপ কফি পান করে আসা যাক। তারপর মনে হল, সাথে একটু ফাস্টফুড খেলে মন্দ হয় না। কিন্তু রেস্তুরার একেবারে সামনে গিয়ে তার পেট একেবারে খালি হয়ে গেল।
গেটে দুইজন দাড়োয়ান দাঁড়িয়ে আছে। হাতে বন্দুক। এ্যাটাকিং ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে কাফির দিকে। সে এদিকে তেমন পাত্তা দিল না। হেঁটে ভিতরে চলে আসল। মৃদু আলোতে চারপাশের রং পাল্টে গেছে। রেস্তুরাটা বেশ বড়। অনেকে বসে বসে রাতের খাবার গ্রোগ্রাসে গিলছে। অনেকে খাওয়া বাদ দিয়ে গল্প করছে সঙ্গীর সঙ্গে।
ওয়েটাররা সারা রেস্তুরা চষে বেড়াচ্ছে; বলা তো যায় না, কার কি লাগে?
কাফি হাঁটতে হাঁটতে পিছনের দিকে এসে দেখল একটা টেবিল পুরোপুরি খালি। সে সেখানে গিয়ে চেয়ারে বসে পড়ল।
সে একটা লাল টি-শার্ট পরে এসেছে। কিন্তু এখন টি-শার্টের রং পরিবর্তন হয়ে গেছে। কিছুটা হলদেটে মনে হচ্ছে। সে আবার কালারব্ল্যাইন্ড। তাই ঠিক মত বুঝতে পারছে না। ঠিক কোন রং-এ পরিবর্তিত হয়েছে তার টি-শার্ট। তাই এইসব নিয়ে বেশি ভাবল না।
ওয়েটার এসে বলল, স্যার আপনাকে কিভাবে হেল্প করতে পারি? বলে একটা মিষ্টি হাসি দিল।
আমাকে সবজি জাতীয় যা আছে সব দাও, সাথে অবশ্যই দেশি ভাত। সে সব সময় ভাতকে দেশি ভাত বলে। কেন বলে প্রশ্ন করে লাভ নেই, কারণ অনেকের অনেক বদঅভ্যেস থাকে।
ওয়েটার চলে গেল। সে বসে বসে ভাবতে লাগল, বাসায় গিয়ে কি জবাব দিবে তার স্ত্রীকে?
আজ তার চাকরি গেল। বস বলেছেন, আপনি একদিনও রাইট টাইমে আসতে পারেন না, সো আপনার আর আসার প্রয়োজন নাই। খুবই ভদ্র ভাষায় কথাগুলো বলে এমনভাবে তাকিয়েছেন সে আর কোন কথা বলার সাহস পায় নি। বসগুলো সব একই রকম, দোষ ধরার জন্যে বসে থাকে। বড় ধরণের দোষ পেলেই কাফির মত অবস্থা করে।
কিছুক্ষণ পর ওয়েটার আসল। কিন্তু কোন খাবার আনে নি সে। কাফি ভাবল সে কি জেনে গেছে আমার পকেটে টাকা নাই।
স্যার, আপনি যে খাবার গুলো অর্ডার দিয়েছেন , সেগুলো আমাদের বেসমেন্টে গিয়ে খেতে হয়। এটাই নিয়ম।
এইটা আবার কেমন নিয়ম?
দুঃখিত স্যার।
ঠিক আছে, চলেন। খেতে তো হবে!
ওয়েটার তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল। একটা দরজা সোজা নেমে গেছে নিচের দিকে। সেখানে নামার পর প্রায় অন্ধকার গলি দিয়ে হাঁটছে তারা। ওয়েটারের কোন সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু কাফি তো এই পথে হেঁটে অভ্যস্থ নয়। তাই তার হাঁটতে সমস্যা হচ্ছে।
তোমাদের লাইট নাই?
আছে। কিন্তু জ্বালানোর নিয়ম নাই, স্যার।
এটা আবার কেমন নিয়ম। বলেই সামনের একটা টবের সাথে পা লেগে গেল তার।
স্যার কি ব্যাথা পেলেন?
না। চল। কিন্তু লাইট কেন জ্বালানো নিষেধ বল?
আমাদের মালিকের হুকুম। আপনি যে খাবারের অর্ডার দিয়েছেন, সেগুলো আমাদের মালিক রান্না করেন তাই আপনাকেও নিচে যেতে হচ্ছে।
কি আজব?
না স্যার।
নাহ!
হ্যাঁ। তিনি একটু আজব বটে কিন্তু লোকটা অনেক ভাল। আপনি গেলেই বুঝতে পারবেন।
তারা বিশাল গলি পেরিয়ে এখন একটা গুহা মুখে দাড়িয়েছে। ওয়েটার কি একটা সুইচ চাপ দিতেই গুহার দরজাটা খুলে গেল। আসলে কোন গুহা নয় কিন্তু এর ডিজাইন করা হয়েছে ঠিক গুহা মুখের মত।
সিঁড়ি দিয়ে নেমে ওয়েটার তাকে একটা কারুকার্যময় টেবিলে বসতে বলল। বলল, আপনি ২ মিনিট অপেক্ষা করেন, খাবার চলে আসবে।
কাফি এত সুন্দর পরিবেশে কোনদিন আসে নি; এমনকি দেখেও নি। আশে-পাশে সব দামী দামী পেইন্টিং। টেবিল-চেয়ারটাও কত সুন্দর। সিলিং লাইটটা অনেক চমকালো। একটু দূরে একটা বুক-সেলফ। বইয়ে ঠাসা। কিন্তু কাফির এখন এইসব কিছুই ভাল লাগছে না। তার খাবার চাই।
ঠিক তখন ওয়েটার খাবার নিয়ে হাজির হল। খাবারগুলো টেবিলে রেখে বলল, আপনি শুরু করুন, স্যার। আমাদের মালিক আপনার সাথে দেখা করবেন।
সে একটু মাথা নাড়িয়ে খাওয়া শুরু করে দিল। সে যে হাত-মুখ না ধুয়েই খাওয়া শুরু করেছে এটা তার খেয়ালই নেই।
তার খাওয়া শেষ হওয়ার পর ওয়েটারকে ডাকল। কিন্তু কেউ সাড়া দিচ্ছে না। আবার ডাকল, ওয়েটার ওয়েটার। এখনও কেউ শুনছে না। সে মনে মনে বলল, গেল কই?
আপনি কিন্তু অধৈর্য হচ্ছেন। কেউ বলে উঠল।
যিনি কথাটি বললেন, ধীরে ধীরে জমাট অন্ধকার থেকে আলোতে এসে নিজের মুখ দেখাল। বিশালদেহী লোকটি কালো আলখেল্লা পরে আছেন। তার চোখের দিকে তাকিয়ে কাফি আর কিছু বলতে পারল না। শুধু গাইগুই করতে লাগল যেন সে ভয় পেয়েছে।
বলুন। সে তার গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠল।
ইয়ে..মা..মা..নে। বলতে পারল না সে। এইরকম লোককে সে এখানে আশা করে নি।
আপনি কিন্তু ঘাবড়ে যাচ্ছেন? যেন ঘাবড়ে যাওয়া কোন দোষের এমন ভাবে সে বলল। এবং তার দিকে গভীরভাবে তাকালো।
মানে ওয়েটার। অনেক ক্ষণ পরে কাফি বলল।
কি হয়েছে, ওয়েটারের?
সেটাই তো জানতে চাচ্ছি। সে স্বস্থির নিঃশ্বাস ছাড়ল।
সে তার কাজে গেছে। আপনি আমাকে বলুন। বলে সে একটা চেয়ারে আরাম করে বসল।
বিলটা আর ওয়াশরুমটা। দাঁড়িয়ে সে বলল। যেন দৌড় দিবে।
বাদিকে যান। লোকটি বসে বসে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কোন দিকে যেতে হবে।
কাফি একটু চমকে উঠল। হঠাৎ করে তার কেন এত ভয় লাগছে সে বুঝতে পারছে না। তাই হন্তদন্ত হয়ে সে ওয়াশরুমের দিকে গেল। ভিতরে ঢুকে হাত, মুখ ভাল করে ধূয়ে নিল। তারপর সবকিছু চিন্তা করল ঠান্ডা মাথায় । আসলে সে কোথায়? কি করছে? মানিব্যাগ বের করল। দেখল ৫০টাকার একটা নোট আর দুই টাকার তিনটি নোট। আর কোন টাকা নেই। এখন বিল যদি অনেক হয় তবে কি করবে? পালানোর কোন রাস্তা আছে কিনা। পরক্ষণেই তার মনে পড়ল সে যে অলি-গলি পার হয়ে এসেছে, একা কোনভাবেই সে বাইরে বের হতে পারবে না। সেই ওয়েটারের সাহায্য তার লাগবেই।
ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আবার আগের জায়যায় ফিরে এসে চেয়াসে বসে পড়ল। সে ভয়ে ভয়ে লোকটির দিকে তাকিয়ে আছে। লোকটি তাকে তার নাম জিজ্ঞাসা করল। সে উত্তর দিল, সাইয়ান কাফি।
আপনি মনে হয় বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান।
হ্যা, কিন্তু কিভাবে বুঝলেন?
কাফি অর্থ কি?
যথেষ্ট।
মানে আপনার জন্মের পর আপনার বাবা-মা আর কোন সন্তান নিতে চান নি বলেই হয়ত আপনার নাম কাফি রেখেছেন।
হতে পারে।
তাহলে চলুন, যাওয়া যাক। বলে সে উঠে দাঁড়াল।
কোথায়?
কেন ওয়েটার আপনাকে কিছু বলে নি।
কি?
এখানে খাওয়া-দাওয়া করলে একরাত এখানে থেকে যেতে হবে এবং আমার কিছু কাজ করে দিতে হবে।
না তো, সে কিছুই বলে নি।
ঠিক আছে এসে যখন ফেলেছেন, তাহলে চলুন কাজে লেগে পড়ি।
কিন্তু কি কাজ করব? আমার খাবারের বিল।
সেটা লাগবে না। তাছাড়া আপনার অত টাকাও নেই। মূলত যে টেবিলটায় আপনি বসেছিলেন তার জন্য বিশেষ অফার পেয়েছেন। আমার মা সেখানে বসতেন। তাই প্রত্যেকরাতে যিনি ঐ টেবিলে বসেন, তাকে আমরা ফ্রি সার্ভিস দেই ও সঙ্গে একরাতের জন্য এখানে থাকতে দেই। এটাই।
কাফি কিছু বলল না। বুঝল লোকটা খুব বুদ্ধিমান। কিন্তু এখন কি করাবে কে জানে। ফাঁদে তো আটকে গেছে এখন বের হওয়ার উপায় কি হতে পারে?
তেমন কিছু না। একটা শীতল কক্ষে ঢুকবেন; সেখানে আপনাকে এক ঘন্টা পর পর খাবার দেওয়া হবে, সেগুলো খাবেন, এটাই আপনার কাজ। কি পারবেন না? লোকটা বলেই চলেছে।
সে জানে না বলে লাভ নেই। এই লোকের কথামত না চললে হয়ত কোনদিন বের হতেই দিবে না। তাই বলল, কিন্তু আমি তো মাত্রই খেলাম।
এক ঘন্টা পর খাবেন এখন না।
ঠিক আছে, চলুন।
তারপর লোকটা তাকে অনুসরণ করে হাঁটতে বলল। সে তার পিছু পিছু হাঁটছে। লোকটির চোখে সে আনন্দ দেখতে পেয়েছে কিন্তু কেন তা জানে না। লোকটি পাশে কাফিকে বাচ্চার মত লাগছে। যেন বাবা তার ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়েছে।
আবার অনেকগুলি অলি-গলি পেরিয়ে একটা খাবার ঘরে ঢুকল তারা। লোকটি তাকে একটা টেবিলে-চেয়ারে বসতে বলে চলে গেল। রুমটা সত্যি ঠান্ডা, বাইরে যা গরম পড়েছে এখানে রাত কাটালে মন্দ হয় না। কিন্তু বাসায় তো সবাই চিন্তা করছে। তাতে কি একদিনে বিশেষ কিছু হবে না। সকালে গিয়ে বুঝিয়ে বললেই হবে।
পাশে তাকিয়ে দেখল, একটা সুন্দর গদি পাতা। সেখানে গিয়ে শরীরটা ঢেলে দিল গদিতে। সঙ্গে সঙ্গে তার দু’চোখে ঘুমের বন্যা আক্রমণ করল।
এই যে স্যার উঠুন। স্যার, স্যার, উঠুন। কাফি এইসময় স্বপ্ন দেখছিল সে এক বাগান বাড়িতে ছুটি কাটাতে গেছে। সেখানে নির্মল বাতাস, ফুলের কি সুভাষ,পাখির কলরব, চারপাশ সুনসান। কত সুন্দর পরিবেশ।
আবার কেউ ডাকল, স্যার উঠুন।এবার সে জেগে উঠল। দেখল এক সুন্দরী মহিলা তাকে ডাকছে।
আপনি কে? এখানে কি চাই?
মালিক পাঠিয়েছেন।
কেন?
আপনার সাথে রাত্রি যাপন করার জন্যে।
তার ধীরে ধীরে মাথা থেকে সব কুয়াশা সরে যাচ্ছে। সেই লোকটির কথা তার মনে পড়ল। ঘুমের জন্যে সবকিছু ভুলে বসেছিল। কিন্তু সে তো বলেছে শুধুই খাবারের কথা। না ব্যাপারটা বেশি সুবিধার না।
আমি বিবাহিত। আপনি যেতে পারেন। বলেই সে উঠে পড়ল এবং চেয়াসে বসল। টেবিলে একটা বই পরেছিল মলাটবিহীন সেটার প্রথম পাতা খুলল। কিন্তু পড়তে পারল না। চিন্তায় সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল। অক্ষরগুলো তার চোখের সামনে উড়তে আড়ম্ভ করল।
কিন্তু মালিক যে হুকুম দিয়েছেন, সেটা তো পালন করতেই হবে।
ঠিক আছে আপনি ১ ঘন্টা এখানে অপেক্ষা করুন।
আমাকে যে কাজে পাঠানো হয়েছে, তা আমাকে পালন করতেই হবে।
কি করতে চান?
আমাকে জড়িয়ে ধরুন। তারপর আপনার আশ মিটিয়ে নিন।
কিন্তু বললাম তো আমার স্ত্রী আছে।
মহিলা এতই সুন্দরী যে কাফিকে বার বার ভাবতে হচ্ছে তার ব্যাপারে এবং লোকটির ব্যাপারে, লোকটি কি চায়?
মহিলাটি একটি সুন্দর লাল শাড়ী পরে আছে। তার ঠোট দুটো গোলাপী। চওড়া কপাল। যে কেউ এক নজর দেখলেই পছন্দ করবে।
আপনার নাম কি? কাফি জিজ্ঞাসা করল।
রেবেকা।
কি করেন?
মালিকের হুকুম পালন করি।
আপনি থাকেন কোথায়?
এখানেই।
মানে।
আমি এই কক্ষেই থাকি। রাত ১২ থেকে ১ পর্যন্ত। তারপর চলে যাই।
কোথায় যান?
সেটা বলা নিষেধ। আপনি কিন্তু কিছু করছেন না। মালিক জানলে রাগ করবেন।
আমি কিছুই করব না। আপনি চলে যান। বলে সে আবার বইয়ের দিকে নজর দিল।
কিন্তু মহিলাও নাছোরবান্দা। সে নিজের কাপড় নিজেই খুলতে শুরু করেছে, কাফি একবার দেখে তাকে থামতে বলল। কিন্তু সে থামল না। পুরোপুরি নগ্ন হয়ে কাফির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তারপর বলল, এবার আমাকে নিয়ে মেতে উঠুন।
কাফি তার গোলপী ঠোটে চুমু খেল। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না। সেও মেতে উঠল। যেন কোন এক ঘোরের মধ্যে আছে। সবকিছু ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।
প্রায় এক ঘন্টা চলল তাদের এই যৌনতা। দুইজনেই তৃপ্ত হয়ে বিছানা ছেড়ে উঠল। রেবেকা নামে মহিলাটি নিজের কাপড় পরে বলল, আপনাকে ধন্যবাদ।
তারপর সে রুম থেকে বের হয়ে চলে গেল।
কাফি সেখানেই নগ্ন হয়ে বসে ভাবতে লাগল, ভুল করে ফেলল নাতো। নিজে নগ্ন মনে হতেই উঠে কাপড় পরে নিল। একটু পরই আর একজন সুন্দরী মহিলা আসল। সাথে বিভিন্ন ধরণের খাবার নিয়ে। তার মধ্যে ফলের সংখ্যাই বেশি। সে ফলগুলো টেবিলে রেখে চলে গেল। কিছু বলল না।
ফলগুলোর দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবল, তারপর খাওয়া শুরু করল। আঙ্গুর খেতে এত মিষ্টি কোনদিন লাগে নি। কমলা, আপেল, নাশপতি, আনার আর নাম না জানা অনেক কিছুই।
মনে মনে বলল, যদি এখন একটু হুইস্কি খেতে পারতাম। মহিলা যেন দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে ছিল তার হুকুম পালন করার জন্যে। সঙ্গে সঙ্গে এক বোতল হুইস্কি তার সামনে দিয়ে চলে গেল। সে তো অবাক।
হুইস্কির বোতল খুলতে খুলতে সেই মহিলার কথা তার আবার মনে হল; যার সাথে বিছানায় ছিল এতক্ষণ। বোতলে মুখ লাগিয়ে চুমুক দিল। তারপর ভাবতে লাগল এর চেয়েও সুন্দরী কোন মেয়ে যদি এখন আসত।
প্রায় সঙ্গে সঙ্গে একটি মেয়ে তার সামনে হাজির হল। তাকে দেখে তো সে অবাক। এত সুন্দর দেখতে। যেন কোন পরী এসে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
সে ইশারায় ভিতরে ঢুকতে বলল। কাছে আসতে বলল। মেয়েটি কাছে এসে দাঁড়ালে, ধরেই তাকে চুমুতে ভরিয়ে তুলল।
তার সাথেও মিলনের পর সবকিছু ভুলে গেল। কে তাকে এখানে নিয়ে এসেছে এইসব মনে রাখার কোন মানেই নেই। এসেছি যখন ইনজয় করে নেই, ভাবল সে।
আবার খাবার নিয়ে আসল। এবারও ফল-মূলের সংখ্যাই বেশি। খেতে খেতে চিন্তা করল। এখানেই থেকে যাবে সারাজীবন। মালিককে বলতে হবে। সে হয়ত সকাল ছাড়া এখানে আসবে না।
সে সারা রাত ধরে একের পর এক মেয়েদের সাথে বিছানায় গেল এবং ইচ্ছে মত ফল-মূল খেয়ে নিল।
শেষ রাতে তার প্রচুর ঘুম পেল। ভাবল এবার একটু ঘুমানো যাক।
বিছানায় শুয়ে পড়তেই গভীর ঘুমে গহীনে তলিয়ে গেল।
সকালে যখন তার ঘুম ভাঙ্গল, সে দেখল পাশে কোন মহিলা শুয়ে আছে। তার দিকে তাকাল। দেখল মুখটা চেনা চেনা। চিনতে তার বেশ সময় লাগল। হ্যা, এই মহিলাই যে তার স্ত্রী এটা বুঝতে পারল। কিন্তু শ্যামলা মুখের দিকে এক নজর তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিল। বাসায় কিভাবে ফিরল, সেটা বুঝতে না পেরে রুম থেকে বের হয়ে গেল।
হাঁটতে হাঁটতে সেই রেস্তুরার কাছে আসল। আশে-পাশে ভাল মত লক্ষ্য করল। কিন্তু না কোন রেস্তুরা নেই। খালি একটা ফাঁকা জায়গা পড়ে আছে, তার চারদিক দেয়াল দিয়ে ঘেরা। দাঁড়িয়ে দেখল তার মত আরো অনেকে এসে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে আসে। কয়েকজন তাকে দেখে একটু এড়িয়ে চলে গেল।
কারণ সে যে পোষাকে এসেছে, তাকে উম্মাদ ছাড়া অন্য কিছু কেউ ভাবছে না।
চাকচিক্য পূর্ণ রেস্তুরাটা দেখে কাফির লোভ লাগল। তার পেটের ভিতর দুনিয়ার ক্ষুধা বাসা বাঁধতে লাগল সঙ্গে সঙ্গে। প্রথমে তার মনে হল, যাই এক কাপ কফি পান করে আসা যাক। তারপর মনে হল, সাথে একটু ফাস্টফুড খেলে মন্দ হয় না। কিন্তু রেস্তুরার একেবারে সামনে গিয়ে তার পেট একেবারে খালি হয়ে গেল।
গেটে দুইজন দাড়োয়ান দাঁড়িয়ে আছে। হাতে বন্দুক। এ্যাটাকিং ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে কাফির দিকে। সে এদিকে তেমন পাত্তা দিল না। হেঁটে ভিতরে চলে আসল। মৃদু আলোতে চারপাশের রং পাল্টে গেছে। রেস্তুরাটা বেশ বড়। অনেকে বসে বসে রাতের খাবার গ্রোগ্রাসে গিলছে। অনেকে খাওয়া বাদ দিয়ে গল্প করছে সঙ্গীর সঙ্গে।
ওয়েটাররা সারা রেস্তুরা চষে বেড়াচ্ছে; বলা তো যায় না, কার কি লাগে?
কাফি হাঁটতে হাঁটতে পিছনের দিকে এসে দেখল একটা টেবিল পুরোপুরি খালি। সে সেখানে গিয়ে চেয়ারে বসে পড়ল।
সে একটা লাল টি-শার্ট পরে এসেছে। কিন্তু এখন টি-শার্টের রং পরিবর্তন হয়ে গেছে। কিছুটা হলদেটে মনে হচ্ছে। সে আবার কালারব্ল্যাইন্ড। তাই ঠিক মত বুঝতে পারছে না। ঠিক কোন রং-এ পরিবর্তিত হয়েছে তার টি-শার্ট। তাই এইসব নিয়ে বেশি ভাবল না।
ওয়েটার এসে বলল, স্যার আপনাকে কিভাবে হেল্প করতে পারি? বলে একটা মিষ্টি হাসি দিল।
আমাকে সবজি জাতীয় যা আছে সব দাও, সাথে অবশ্যই দেশি ভাত। সে সব সময় ভাতকে দেশি ভাত বলে। কেন বলে প্রশ্ন করে লাভ নেই, কারণ অনেকের অনেক বদঅভ্যেস থাকে।
ওয়েটার চলে গেল। সে বসে বসে ভাবতে লাগল, বাসায় গিয়ে কি জবাব দিবে তার স্ত্রীকে?
আজ তার চাকরি গেল। বস বলেছেন, আপনি একদিনও রাইট টাইমে আসতে পারেন না, সো আপনার আর আসার প্রয়োজন নাই। খুবই ভদ্র ভাষায় কথাগুলো বলে এমনভাবে তাকিয়েছেন সে আর কোন কথা বলার সাহস পায় নি। বসগুলো সব একই রকম, দোষ ধরার জন্যে বসে থাকে। বড় ধরণের দোষ পেলেই কাফির মত অবস্থা করে।
কিছুক্ষণ পর ওয়েটার আসল। কিন্তু কোন খাবার আনে নি সে। কাফি ভাবল সে কি জেনে গেছে আমার পকেটে টাকা নাই।
স্যার, আপনি যে খাবার গুলো অর্ডার দিয়েছেন , সেগুলো আমাদের বেসমেন্টে গিয়ে খেতে হয়। এটাই নিয়ম।
এইটা আবার কেমন নিয়ম?
দুঃখিত স্যার।
ঠিক আছে, চলেন। খেতে তো হবে!
ওয়েটার তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল। একটা দরজা সোজা নেমে গেছে নিচের দিকে। সেখানে নামার পর প্রায় অন্ধকার গলি দিয়ে হাঁটছে তারা। ওয়েটারের কোন সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু কাফি তো এই পথে হেঁটে অভ্যস্থ নয়। তাই তার হাঁটতে সমস্যা হচ্ছে।
তোমাদের লাইট নাই?
আছে। কিন্তু জ্বালানোর নিয়ম নাই, স্যার।
এটা আবার কেমন নিয়ম। বলেই সামনের একটা টবের সাথে পা লেগে গেল তার।
স্যার কি ব্যাথা পেলেন?
না। চল। কিন্তু লাইট কেন জ্বালানো নিষেধ বল?
আমাদের মালিকের হুকুম। আপনি যে খাবারের অর্ডার দিয়েছেন, সেগুলো আমাদের মালিক রান্না করেন তাই আপনাকেও নিচে যেতে হচ্ছে।
কি আজব?
না স্যার।
নাহ!
হ্যাঁ। তিনি একটু আজব বটে কিন্তু লোকটা অনেক ভাল। আপনি গেলেই বুঝতে পারবেন।
তারা বিশাল গলি পেরিয়ে এখন একটা গুহা মুখে দাড়িয়েছে। ওয়েটার কি একটা সুইচ চাপ দিতেই গুহার দরজাটা খুলে গেল। আসলে কোন গুহা নয় কিন্তু এর ডিজাইন করা হয়েছে ঠিক গুহা মুখের মত।
সিঁড়ি দিয়ে নেমে ওয়েটার তাকে একটা কারুকার্যময় টেবিলে বসতে বলল। বলল, আপনি ২ মিনিট অপেক্ষা করেন, খাবার চলে আসবে।
কাফি এত সুন্দর পরিবেশে কোনদিন আসে নি; এমনকি দেখেও নি। আশে-পাশে সব দামী দামী পেইন্টিং। টেবিল-চেয়ারটাও কত সুন্দর। সিলিং লাইটটা অনেক চমকালো। একটু দূরে একটা বুক-সেলফ। বইয়ে ঠাসা। কিন্তু কাফির এখন এইসব কিছুই ভাল লাগছে না। তার খাবার চাই।
ঠিক তখন ওয়েটার খাবার নিয়ে হাজির হল। খাবারগুলো টেবিলে রেখে বলল, আপনি শুরু করুন, স্যার। আমাদের মালিক আপনার সাথে দেখা করবেন।
সে একটু মাথা নাড়িয়ে খাওয়া শুরু করে দিল। সে যে হাত-মুখ না ধুয়েই খাওয়া শুরু করেছে এটা তার খেয়ালই নেই।
তার খাওয়া শেষ হওয়ার পর ওয়েটারকে ডাকল। কিন্তু কেউ সাড়া দিচ্ছে না। আবার ডাকল, ওয়েটার ওয়েটার। এখনও কেউ শুনছে না। সে মনে মনে বলল, গেল কই?
আপনি কিন্তু অধৈর্য হচ্ছেন। কেউ বলে উঠল।
যিনি কথাটি বললেন, ধীরে ধীরে জমাট অন্ধকার থেকে আলোতে এসে নিজের মুখ দেখাল। বিশালদেহী লোকটি কালো আলখেল্লা পরে আছেন। তার চোখের দিকে তাকিয়ে কাফি আর কিছু বলতে পারল না। শুধু গাইগুই করতে লাগল যেন সে ভয় পেয়েছে।
বলুন। সে তার গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠল।
ইয়ে..মা..মা..নে। বলতে পারল না সে। এইরকম লোককে সে এখানে আশা করে নি।
আপনি কিন্তু ঘাবড়ে যাচ্ছেন? যেন ঘাবড়ে যাওয়া কোন দোষের এমন ভাবে সে বলল। এবং তার দিকে গভীরভাবে তাকালো।
মানে ওয়েটার। অনেক ক্ষণ পরে কাফি বলল।
কি হয়েছে, ওয়েটারের?
সেটাই তো জানতে চাচ্ছি। সে স্বস্থির নিঃশ্বাস ছাড়ল।
সে তার কাজে গেছে। আপনি আমাকে বলুন। বলে সে একটা চেয়ারে আরাম করে বসল।
বিলটা আর ওয়াশরুমটা। দাঁড়িয়ে সে বলল। যেন দৌড় দিবে।
বাদিকে যান। লোকটি বসে বসে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কোন দিকে যেতে হবে।
কাফি একটু চমকে উঠল। হঠাৎ করে তার কেন এত ভয় লাগছে সে বুঝতে পারছে না। তাই হন্তদন্ত হয়ে সে ওয়াশরুমের দিকে গেল। ভিতরে ঢুকে হাত, মুখ ভাল করে ধূয়ে নিল। তারপর সবকিছু চিন্তা করল ঠান্ডা মাথায় । আসলে সে কোথায়? কি করছে? মানিব্যাগ বের করল। দেখল ৫০টাকার একটা নোট আর দুই টাকার তিনটি নোট। আর কোন টাকা নেই। এখন বিল যদি অনেক হয় তবে কি করবে? পালানোর কোন রাস্তা আছে কিনা। পরক্ষণেই তার মনে পড়ল সে যে অলি-গলি পার হয়ে এসেছে, একা কোনভাবেই সে বাইরে বের হতে পারবে না। সেই ওয়েটারের সাহায্য তার লাগবেই।
ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আবার আগের জায়যায় ফিরে এসে চেয়াসে বসে পড়ল। সে ভয়ে ভয়ে লোকটির দিকে তাকিয়ে আছে। লোকটি তাকে তার নাম জিজ্ঞাসা করল। সে উত্তর দিল, সাইয়ান কাফি।
আপনি মনে হয় বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান।
হ্যা, কিন্তু কিভাবে বুঝলেন?
কাফি অর্থ কি?
যথেষ্ট।
মানে আপনার জন্মের পর আপনার বাবা-মা আর কোন সন্তান নিতে চান নি বলেই হয়ত আপনার নাম কাফি রেখেছেন।
হতে পারে।
তাহলে চলুন, যাওয়া যাক। বলে সে উঠে দাঁড়াল।
কোথায়?
কেন ওয়েটার আপনাকে কিছু বলে নি।
কি?
এখানে খাওয়া-দাওয়া করলে একরাত এখানে থেকে যেতে হবে এবং আমার কিছু কাজ করে দিতে হবে।
না তো, সে কিছুই বলে নি।
ঠিক আছে এসে যখন ফেলেছেন, তাহলে চলুন কাজে লেগে পড়ি।
কিন্তু কি কাজ করব? আমার খাবারের বিল।
সেটা লাগবে না। তাছাড়া আপনার অত টাকাও নেই। মূলত যে টেবিলটায় আপনি বসেছিলেন তার জন্য বিশেষ অফার পেয়েছেন। আমার মা সেখানে বসতেন। তাই প্রত্যেকরাতে যিনি ঐ টেবিলে বসেন, তাকে আমরা ফ্রি সার্ভিস দেই ও সঙ্গে একরাতের জন্য এখানে থাকতে দেই। এটাই।
কাফি কিছু বলল না। বুঝল লোকটা খুব বুদ্ধিমান। কিন্তু এখন কি করাবে কে জানে। ফাঁদে তো আটকে গেছে এখন বের হওয়ার উপায় কি হতে পারে?
তেমন কিছু না। একটা শীতল কক্ষে ঢুকবেন; সেখানে আপনাকে এক ঘন্টা পর পর খাবার দেওয়া হবে, সেগুলো খাবেন, এটাই আপনার কাজ। কি পারবেন না? লোকটা বলেই চলেছে।
সে জানে না বলে লাভ নেই। এই লোকের কথামত না চললে হয়ত কোনদিন বের হতেই দিবে না। তাই বলল, কিন্তু আমি তো মাত্রই খেলাম।
এক ঘন্টা পর খাবেন এখন না।
ঠিক আছে, চলুন।
তারপর লোকটা তাকে অনুসরণ করে হাঁটতে বলল। সে তার পিছু পিছু হাঁটছে। লোকটির চোখে সে আনন্দ দেখতে পেয়েছে কিন্তু কেন তা জানে না। লোকটি পাশে কাফিকে বাচ্চার মত লাগছে। যেন বাবা তার ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়েছে।
আবার অনেকগুলি অলি-গলি পেরিয়ে একটা খাবার ঘরে ঢুকল তারা। লোকটি তাকে একটা টেবিলে-চেয়ারে বসতে বলে চলে গেল। রুমটা সত্যি ঠান্ডা, বাইরে যা গরম পড়েছে এখানে রাত কাটালে মন্দ হয় না। কিন্তু বাসায় তো সবাই চিন্তা করছে। তাতে কি একদিনে বিশেষ কিছু হবে না। সকালে গিয়ে বুঝিয়ে বললেই হবে।
পাশে তাকিয়ে দেখল, একটা সুন্দর গদি পাতা। সেখানে গিয়ে শরীরটা ঢেলে দিল গদিতে। সঙ্গে সঙ্গে তার দু’চোখে ঘুমের বন্যা আক্রমণ করল।
এই যে স্যার উঠুন। স্যার, স্যার, উঠুন। কাফি এইসময় স্বপ্ন দেখছিল সে এক বাগান বাড়িতে ছুটি কাটাতে গেছে। সেখানে নির্মল বাতাস, ফুলের কি সুভাষ,পাখির কলরব, চারপাশ সুনসান। কত সুন্দর পরিবেশ।
আবার কেউ ডাকল, স্যার উঠুন।এবার সে জেগে উঠল। দেখল এক সুন্দরী মহিলা তাকে ডাকছে।
আপনি কে? এখানে কি চাই?
মালিক পাঠিয়েছেন।
কেন?
আপনার সাথে রাত্রি যাপন করার জন্যে।
তার ধীরে ধীরে মাথা থেকে সব কুয়াশা সরে যাচ্ছে। সেই লোকটির কথা তার মনে পড়ল। ঘুমের জন্যে সবকিছু ভুলে বসেছিল। কিন্তু সে তো বলেছে শুধুই খাবারের কথা। না ব্যাপারটা বেশি সুবিধার না।
আমি বিবাহিত। আপনি যেতে পারেন। বলেই সে উঠে পড়ল এবং চেয়াসে বসল। টেবিলে একটা বই পরেছিল মলাটবিহীন সেটার প্রথম পাতা খুলল। কিন্তু পড়তে পারল না। চিন্তায় সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল। অক্ষরগুলো তার চোখের সামনে উড়তে আড়ম্ভ করল।
কিন্তু মালিক যে হুকুম দিয়েছেন, সেটা তো পালন করতেই হবে।
ঠিক আছে আপনি ১ ঘন্টা এখানে অপেক্ষা করুন।
আমাকে যে কাজে পাঠানো হয়েছে, তা আমাকে পালন করতেই হবে।
কি করতে চান?
আমাকে জড়িয়ে ধরুন। তারপর আপনার আশ মিটিয়ে নিন।
কিন্তু বললাম তো আমার স্ত্রী আছে।
মহিলা এতই সুন্দরী যে কাফিকে বার বার ভাবতে হচ্ছে তার ব্যাপারে এবং লোকটির ব্যাপারে, লোকটি কি চায়?
মহিলাটি একটি সুন্দর লাল শাড়ী পরে আছে। তার ঠোট দুটো গোলাপী। চওড়া কপাল। যে কেউ এক নজর দেখলেই পছন্দ করবে।
আপনার নাম কি? কাফি জিজ্ঞাসা করল।
রেবেকা।
কি করেন?
মালিকের হুকুম পালন করি।
আপনি থাকেন কোথায়?
এখানেই।
মানে।
আমি এই কক্ষেই থাকি। রাত ১২ থেকে ১ পর্যন্ত। তারপর চলে যাই।
কোথায় যান?
সেটা বলা নিষেধ। আপনি কিন্তু কিছু করছেন না। মালিক জানলে রাগ করবেন।
আমি কিছুই করব না। আপনি চলে যান। বলে সে আবার বইয়ের দিকে নজর দিল।
কিন্তু মহিলাও নাছোরবান্দা। সে নিজের কাপড় নিজেই খুলতে শুরু করেছে, কাফি একবার দেখে তাকে থামতে বলল। কিন্তু সে থামল না। পুরোপুরি নগ্ন হয়ে কাফির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তারপর বলল, এবার আমাকে নিয়ে মেতে উঠুন।
কাফি তার গোলপী ঠোটে চুমু খেল। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না। সেও মেতে উঠল। যেন কোন এক ঘোরের মধ্যে আছে। সবকিছু ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।
প্রায় এক ঘন্টা চলল তাদের এই যৌনতা। দুইজনেই তৃপ্ত হয়ে বিছানা ছেড়ে উঠল। রেবেকা নামে মহিলাটি নিজের কাপড় পরে বলল, আপনাকে ধন্যবাদ।
তারপর সে রুম থেকে বের হয়ে চলে গেল।
কাফি সেখানেই নগ্ন হয়ে বসে ভাবতে লাগল, ভুল করে ফেলল নাতো। নিজে নগ্ন মনে হতেই উঠে কাপড় পরে নিল। একটু পরই আর একজন সুন্দরী মহিলা আসল। সাথে বিভিন্ন ধরণের খাবার নিয়ে। তার মধ্যে ফলের সংখ্যাই বেশি। সে ফলগুলো টেবিলে রেখে চলে গেল। কিছু বলল না।
ফলগুলোর দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবল, তারপর খাওয়া শুরু করল। আঙ্গুর খেতে এত মিষ্টি কোনদিন লাগে নি। কমলা, আপেল, নাশপতি, আনার আর নাম না জানা অনেক কিছুই।
মনে মনে বলল, যদি এখন একটু হুইস্কি খেতে পারতাম। মহিলা যেন দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে ছিল তার হুকুম পালন করার জন্যে। সঙ্গে সঙ্গে এক বোতল হুইস্কি তার সামনে দিয়ে চলে গেল। সে তো অবাক।
হুইস্কির বোতল খুলতে খুলতে সেই মহিলার কথা তার আবার মনে হল; যার সাথে বিছানায় ছিল এতক্ষণ। বোতলে মুখ লাগিয়ে চুমুক দিল। তারপর ভাবতে লাগল এর চেয়েও সুন্দরী কোন মেয়ে যদি এখন আসত।
প্রায় সঙ্গে সঙ্গে একটি মেয়ে তার সামনে হাজির হল। তাকে দেখে তো সে অবাক। এত সুন্দর দেখতে। যেন কোন পরী এসে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
সে ইশারায় ভিতরে ঢুকতে বলল। কাছে আসতে বলল। মেয়েটি কাছে এসে দাঁড়ালে, ধরেই তাকে চুমুতে ভরিয়ে তুলল।
তার সাথেও মিলনের পর সবকিছু ভুলে গেল। কে তাকে এখানে নিয়ে এসেছে এইসব মনে রাখার কোন মানেই নেই। এসেছি যখন ইনজয় করে নেই, ভাবল সে।
আবার খাবার নিয়ে আসল। এবারও ফল-মূলের সংখ্যাই বেশি। খেতে খেতে চিন্তা করল। এখানেই থেকে যাবে সারাজীবন। মালিককে বলতে হবে। সে হয়ত সকাল ছাড়া এখানে আসবে না।
সে সারা রাত ধরে একের পর এক মেয়েদের সাথে বিছানায় গেল এবং ইচ্ছে মত ফল-মূল খেয়ে নিল।
শেষ রাতে তার প্রচুর ঘুম পেল। ভাবল এবার একটু ঘুমানো যাক।
বিছানায় শুয়ে পড়তেই গভীর ঘুমে গহীনে তলিয়ে গেল।
সকালে যখন তার ঘুম ভাঙ্গল, সে দেখল পাশে কোন মহিলা শুয়ে আছে। তার দিকে তাকাল। দেখল মুখটা চেনা চেনা। চিনতে তার বেশ সময় লাগল। হ্যা, এই মহিলাই যে তার স্ত্রী এটা বুঝতে পারল। কিন্তু শ্যামলা মুখের দিকে এক নজর তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিল। বাসায় কিভাবে ফিরল, সেটা বুঝতে না পেরে রুম থেকে বের হয়ে গেল।
হাঁটতে হাঁটতে সেই রেস্তুরার কাছে আসল। আশে-পাশে ভাল মত লক্ষ্য করল। কিন্তু না কোন রেস্তুরা নেই। খালি একটা ফাঁকা জায়গা পড়ে আছে, তার চারদিক দেয়াল দিয়ে ঘেরা। দাঁড়িয়ে দেখল তার মত আরো অনেকে এসে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে আসে। কয়েকজন তাকে দেখে একটু এড়িয়ে চলে গেল।
কারণ সে যে পোষাকে এসেছে, তাকে উম্মাদ ছাড়া অন্য কিছু কেউ ভাবছে না।
সুন্দরগল্প
ReplyDelete