একক ইশ্তাহার
‘নৈপুণ্য এক সুকৃতি। কর্মফলে জড়ায় না জ্ঞানী। তাকে জন্মমৃত্যুর শেকলমুক্ত করে দেয়।’
-
শ্রীমদ্ভাগবত গীতা
┌ ┐
শেষ খেলা ভেঙেছিলো যেদিন
যেদিন স্টেডিয়াম থেকে বাড়ি ফিরে এসে
মনে হয়েছিলো
বৃত্ত থেকে ছুটি হয়ে গেল পুনর্চক্র
থেকে মুক্তি
আর ফিরিনি তাই স্টেডিয়ামে তবু
খেলা চলেছে আর লেখা থামেনি
└ ┘
‘নতুনের তরে তুমি বর্জন করো পুরনো
পোশাক
ক্ষয়ে যাওয়া শরীরের বদলে তুমি নাও অন্য শরীর
তুমি নও শরীর তোমার’
-
শ্রীমদ্ভাগবত গীতা
┌ ┐
গায়ে আলো নিয়ে যে জ্বলছে আসলে সে মৃত।
জরিপাড়ে যে শুয়ে আছে তার দুচোখে মাখা
তুলসীবাটা। যে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে,
পোড়াতে নিয়ে যাবার। দর্শন,
পঙক্তি থেকে ঠেলে বের করতে চায় শিল্পপাতা।
বড়ো পাতার আণবিকে রয়েছে ফুল।
তারার মতো ফুল
রয়েছে প্রত্যেক গাছে ফুল। ফুলের মধ্যে বীজ। বীজের থেকে ফল।
ফলের মধ্যে বীজ যে বীজে গাছ।
পুনরাবৃত্তিতে জঙ্গল ফলে। জঙ্গলে প্রাণের ক্রোড়, বন্যতা, সমষ্টি, ভিড়।
যার ওপরে রূপ ঝোলে, আলোর অভাবে। রূপকে, নক্ষত্রজরির কারুকাজে।
ধ্বনি আর শব্দের কাহিনি একরকম। শব্দ আর বাক্যের সম্পর্ক এক।
ফ্রেম
ও শটের। শট ও সীনের। সীন ও রীলের। বস্তু ও
অনুস্থাপনের।
গুঁড়ো পাথরের ওপর
তিনটে মোমবাতি
যাদের কম্পন আছে আভা
অনাভা
যে আভার আছে সমীকরণ
ধারক আছে
তবু নিয়ন্ত্রণ নেই
সবাই জানেনা ওদের নিচে
সুইচ আছে ওদের কলিজায় AA ব্যাটারি
তবু স্ব-নিয়ন্ত্রণ নেই
└ ┘
‘অগ্নিদীপ্তিসম, ভালোবাসার প্রকৃষ্ট আলোর
জোর/
যা পোড়াকাঠের ব্যর্থতা ও সৌন্দর্যে আনে অবশ
বিবেক ’
-
ফিলিপ ঝাকোতেত
┌ ┐
তবু তো পাতা ফেরেনা, ফোটেনা আপেল-মুকুলের মুখ
কাঁকালে এখনো কাঁকাল ধরা
হাতের রেখার খালি সপাটে সাজানো পঙক্তি
তোমার মনোকষ্টলিপির অপেক্ষায়।
জোর বা আলো তো আমি দেখতে পাইনা
শুধু কুহকে কুহকে সিগ্নালিং পাল্টে যাচ্ছে এই ছায়াপথ থেকে
পাশেরটায়
অবশেষে স্পার্ক-প্লাগ বদলানো হলো
আর শুরু হলো সবুজের একটানা পর্যালোচনা
তবুও পোড়াকাঠের অবশ থাকে দেরাজে, ক্লসেটে।
লাবণ্য, বিষাদ, সৌন্দর্য ও যন্ত্রণার একটা চারপেয়ে
যে আমার ওপর দিয়ে ঘুরঘুর করতে করতে
তোমাকে শুঁকে ফেলবে
আমি কোনোদিন ভাবিনি। স্বপ্নেও না।
└ ┘
No comments:
Post a Comment