অয়ন ঘোষ


যুদ্ধকালীন বিরতিগুলি বিজ্ঞাপনবিহীন


উৎসুক জ্যোৎস্নার প্রার্থনাপত্রের কাছে

মৃতদের মুখগুলি পাশাপাশি পড়ে আছে

আমাদের যারা ফিরিয়ে দিয়েছিলো ও কেটে পড়েছিলো যাত্রাপথ থেকে অথবা আমরা যাদেরকে কাটিয়ে উঠেছি-তারা প্রকৃতই শিশু-দিনগুলো এরকম কাটে-কবিতা লিখতে পারি না আর শুয়ে থাকি সারাদিন নতুন কোনো আত্মহত্যার পদ্ধতির খোঁজে কেটে যায় অনেকটা সময় স্বপ্ন দেখি আগুন লাগিয়ে দিচ্ছি স্টার জলসার স্টলে ঠিক বিপরীতে পুলিশের টাওয়ার নিচে ভেসে যাওয়া সামুদ্রিক ফ্যানা, ওরা ভয় পায় পাগলদের পাগলামি করা ছাড়া আর কোনো কাজ নাই তাই শুয়ে পড়ি পুনরায় জেগে উঠি অলসতা নিয়ে

নারীরা সকলে আড়চোখে চেয়ে দূরে থাকে আমাদের থেকে

রমানাথ স্ট্রীটে বসে পাউরুটি খেতে খেতে পাগলিনীর অর্ধোন্মুক্ত স্তন দেখে আমি কেঁপে উঠি তার শায়ার ফিতে দেখে তাকে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে আমার একসাথে থাকার কথা ছিলো কোনো নারীর সাথে আমার একসাথে থাকা হলো না হায় আমার হাহাকার এতদিন লুকিয়ে রাখতে চেয়েছি যাকে বারুদ ও হাতবোমা ছুঁড়ে ধোঁয়ায় নিজেকে ঢেকে রেখেছি কিন্তু আকাশ ফর্সা হলে দেখেছি দিব্যি উঠেছে হতভাগ্য রোদ

সবকিছু অদ্ভুত ঠ্যাকে-বন্ধুদের মুখ, শিক্ষকদের হাসি, গাঁজার ধুনকি এমনকি তরুণীর অঘোষিত আহ্বান সবকিছু একঘেয়ে লাথ মেরে আমি একাকি চুয়াল্লিশ নম্বর বাসে চেপে মুত পেয়ে যায় কখনও হিজড়েরা সিটি মেরে আমাকে ডাকে-যে জানলায় তাকিয়ে থাকি নগ্ন কোনো পায়ের আশায়, সেইসব ঘরের বাতি দেখি নিভে যায় চট্ করে আর অন্ধকার ছড়িয়ে পড়ে ক্রমশ আলো জ্বলে নিজের ভিতরে বুঝি আমি একেবারে একা

No comments:

Post a Comment