অধোদেশ
এসো তোমায় পড়ে থাকা জিনিসের গল্প শোনাই। পড়ে থাকা জিনিস...পুড়ে যাওয়া জিনিস...পড়ে পড়ে পুড়ে যাওয়া ছাই ছাই বইয়েদের মত সন্ধ্যেবেলা...আকাশে তখনো চাঁদ গজিয়ে ওঠেনি...বাইরে জমাট শীত পড়ে গেছে...ভেতরে শীতাতপ...রাতের বাস এক শহর থেকে আরেক শহরে যাতায়াত করছে, যেমন রোজই করে। কাবেরী শুট শেষ করে সপ্তাহে তিনদিন এই বাসে করে বাড়ি ফেরে। আজও ফিরছে। যা রোজ হয়, রোজ চলে তাও, কি পড়ে থাকে? কাবেরী গরম বাসের জানলা দিয়ে বাইরের ঠান্ডা সন্ধ্যের দিকে তাকিয়ে ভাবে, তার থেকে যাওয়া মানে কি কেবল পড়ে থাকা? বাসটাও কি পড়ে আছে? আকাশটা? সন্ধ্যেটা? গোটা দুনিয়াটাই কি পড়ে আছে? থাকা মানেই কি পড়ে থাকা? আর নড়াচড়া করলে? তাহলেও কি লোকে বলবে, পড়ে আছে? ও মেয়েমানুষ বলেই কি লোকে ওকে পড়ে থাকার কথা বলে? পুরুষরা নড়াচড়া করে আর মেয়েরা পড়ে থাকে? তাই কি?
কাবেরী আজ পরপর ছ'টা শুট করেছে। দুটো হেটেরো, দুটো হোমো আর দুটো টিটিলেশন। তার মধ্যে দুটো ইন্টাররেশিয়াল আর একটা থ্রিসাম। এসবের পর এখন বেশ ক্লান্ত। বাসে বসেই সিটে গা এলিয়ে দিয়েছে। বাস ছুটে চলেছে আর সে ছুটন্ত বাসের ভেতর পড়ে আছে। বাসে লোকজন নেহাৎ কম নয় কিন্তু সবাই দিনের শেষে একটু রেস্ট নিয়ে নিচ্ছে বলে সব চুপচাপ। আলো নেভানো রয়েছে। শব্দ বলতে শুধু এয়ার-কন্ডিশনারের উত্থান-পতন। কাবেরী আবার ভাবতে শুরু করে মেয়েমানুষদের পড়ে থাকার কথা। ভাবতে ভাবতে বাইরের আকাশ, গাছ, অন্ধকার কেটে একটু পর পর এদিক ওদিক আলো, দূরের পাহাড়, ছোট ছোট আবছা বাড়ি--সবকিছুকে তার মেয়েমানুষ মনে হয়। সব কিছুই তো পড়ে আছে। পড়ে আছে স্থির, তাও নড়াচড়া করে চলেছে ভেতর ভেতর। যেমন সারাটা দিন তার স্থির যৌনাঙ্গের ভেতর নড়াচড়া করেছে প্রাণতরল। সে আর তার বাইরের পৃথিবীটা যদি এক হয়, তাহলে সবাই তার মতো মেয়েমানুষ। সবাই তার মত পড়তে পড়তে থেকে গেছে। থেকে থেকে পড়ে যাচ্ছে অতলান্তহীন খোলসপথে। ফ্রম সারফেস টু সারফেস।
কাবেরী চোখ বন্ধ করে তার পড়ে থাকার কথা ভাবে। সারাদিন ধরে উঠক-বৈঠক। মুখ জুড়ে কামশটের আল্পনা। খান চারেক ব্লো-জব। ক্লিটোরিসের পেখম তোলা সম্ভাষণ। যোনিপথে আঙুল নাড়ালে সে আঙুলের লিঙ্গ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। নখের কোটরে অন্ধকার রুমাল নেড়ে যায়। সে পড়ে থাকে আর তার পড়ে থাকা শরীরে ঢুকে পড়ে একটা পুরুষ-শরীর। যতটা ঢুকতে পারে। যোনিপথ আকীর্ণ হলে পায়ুপথ সরগরম হয়ে ওঠে। তার মেল্ কো-স্টারদের বাজারদর নির্ভর করে বীর্যপাতের সময় কত দূরে তারা ফোয়ারা ছোটাতে পারে তার ওপর। শরীর থেকে বাইরের দিকে ছিটকে যাওয়া সান্দ্র তরলের গরিমায় তাদের রাঙ্কিং ঠিক হয়। কাবেরীদের রাঙ্কিং মানে ব্রেস্ট, বাটক্স ইত্যাদি অংশ প্রত্যংশের বর্তুলতা...যেন শরীরের অংশ মানেও অভিন্ন একটা শরীর...যেন প্রতিটি স্তন, নিতম্ব এবং যোনিরোম থেকে একেকটা কাবেরী বেরিয়ে আসতে পারবে! না, পারবে না...কোনোদিনই পারবে না।
পুরুষরা নড়াচড়া করে। উত্তেজিত হলে তাদের যৌনাঙ্গ উঠে দাঁড়ায়। কাবেরীদের স্তনবৃন্ত টানটান। তার যৌনাঙ্গ কিন্তু ভেতর থেকে বাইরে বাড়ে না। বাইরে থেকে ভেতর দিকে চড়চড় করে বেড়ে যায়...গভীরতা পায়...সেই গভীরের কোনো শুরুও নেই, শেষও নেই---বাসে বসে বন্ধ চোখের অন্ধকার আর বাইরের সদ্য নামা রাতের অন্ধকারকে কোন এক অদৃশ্য উপকণ্ঠে মিলিয়ে দিয়ে বুঝে নেয় কাবেরী। বুঝে নেয়, বাইরের আকাশ, বাতাস, অন্ধকার, পাহাড়, বাড়ি, আলো--- সবকিছু সেই গভীরতা থেকেই বেরিয়ে আসছে। নারীর যৌনাঙ্গ থেকে যদিও পুরুষের ফাউন্টেন কামশট বেরোয় না কিন্তু গোটা পৃথিবীটা তো তাও বহির্নির্গত হয়েছে...বহির্নির্গত হয়েছে বলেই তো একা পড়ে আছে! স্ট্রিপটিজের মাধ্যমে টিটিলেট করতে ভালোবাসে কাবেরী। সেখানে সে একাই একশো। আর কাউকে লাগে না। একা চিন্তাভাবনা করতে পারে। আজ আবার দুটো হেটেরোতেই পায়ুকাম করতে হয়েছে। তাই কিছুটা রাফ লাগছে কাবেরীর। পাবলিক ডিমান্ডে ফিঙ্গারিংয়ের সময় তার যোনিপথে প্রাণতরল চলকানোর এক্সট্রিম ক্লোজ আপ নেওয়া হয়েছে। মেল্ কো-স্টারের আঙুল তিনটে যখন পিছল যোনিপথের স্ফীতি নির্মাণে ব্যস্ত, তখন স্ফীতির ভেতর চলকে ওঠা দুগ্ধতরলের মত মনে হয় কাবেরীর, এই পৃথিবীটাকে। হোমো শুটের সময় অনেক বেশি আনন্দ পায়। অন্যজনের শরীরটা চেনা লাগে। খেলার ছলে শরীর চলকে যায়। আলতো লাগে। কখনো সে ওপরে থাকে, কখনো ফিমেল কো-স্টার। পড়ে থাকার কথা মনে হয় না তখন।
কাবেরী চোখ খোলে। দুই শহরের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কোন জনবসতি নেই। বনবাদাড় আর মাঝে মধ্যে দুএকটা ফার্ম হাউস। আকাশে চাঁদ উঠেছে। পরিস্কার আকাশ। অনেক তারাও চোখে পড়ছে। সবাই পড়ে আছে। আজ শুটের প্রথম দিকে ঠিকঠাক মোন করতে পারছিল না বলে কথা শুনতে হয়েছে। ডিরেক্টর বলছিল, "কি, অমন পাথরের মত পড়ে থাকলে চলবে নাকি?" কাবেরী বাসের সামনের দিকে তাকায়। অন্ধকার রাস্তায় বাসের চোখজোড়া আলো হয়ে ফুটে রয়েছে। এগিয়ে যাচ্ছে সরলরেখায়। সবাই ঘুমোচ্ছে। শব্দ বলতে শুধু শীতাতপ। এয়ার কন্ডিশনারের ওঠানামার বাতাসচেরা শব্দটাকে এই প্রথম শ্বাসপ্রশ্বাসের মতো মনে হচ্ছে কাবেরীর। যেন তার ওপর ওঠা নামা করছে কোনো পুং শরীরের ভিতর-বাহির। বড় বড় শ্বাস পড়ছে তার আর তার কো-স্টারের। ভালোবাসাহীন প্রশ্বাসের উত্থান-পতন যেমন হয়। এয়ার কনের শব্দ শুনতে শুনতে কাবেরীর মনে হচ্ছে, প্রতিটা শ্বাসে তার শরীর আরো গভীরতাপ্রাপ্ত হচ্ছে আর তার কো-স্টারের পুং-শরীর, ফোয়ারার কামশট হয়ে পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ফ্রম সারফেস টু সারফেস। এয়ার কনের শ্বাসপ্রশ্বাস কাবেরীকে পড়ে থাকার গল্প বলছে। তার যোনিপথের গহীন থেকে কামশটের মতো বাইরে বেরিয়ে আসা এই পৃথিবীটা অবাক পড়ে আছে। বুঝতে পারছে না সে পুরুষ না মেয়েমানুষ। নাকি পাথর হয়ে পড়ে আছে? পড়তে পড়তে পুড়ে যাওয়া বইয়ের ছাই নখের কোটরে রুমাল নেড়ে যাচ্ছে।
No comments:
Post a Comment